ঢাকা: হরমুজ প্রণালীতে ইরানের মাইন সনাক্ত করতে আবারও ডলফিন ব্যবহারের পরিকল্পনা করছে মার্কিন নৌবাহিনী।
এর আগে ২০০৩ সালে উপসাগরীয় যুদ্ধে ইরাকের বিরুদ্ধে সমুদ্রে ইরাকি মাইন সনাক্ত ও অপসারণের কাজে প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত ডলফিন ব্যবহার করেছিল যুক্তরাষ্ট্র।
সামরিক কাজে নিরীহ সামুদ্রিক প্রাণী ডলফিনের ব্যবহার নিয়ে সেসময় সমালোচনাও কম হয়নি। তবে সবার আপত্তি উপেক্ষা করে আবারও মাইন সনাক্ত করার মতো বিপজ্জনক কাজে ডলফিনের ব্যবহার করতে যাচ্ছে মার্কিন নৌবাহিনী।
মার্কিন নৌবাহিনীর সাবেক অ্যাডমিরাল টিম কিটিং গত বুধবার এক সাক্ষাতকারে এই সম্ভাবনার কথাই জানিয়েছেন। নৌবাহিনীর কাছে উপযুক্ত প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত এমন অনেক ডলফিন রয়েছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।
পরমাণু প্রকল্প নিয়ে ইরানের সঙ্গে পশ্চিমাদের বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের দ্বন্দ্ব এখন তুঙ্গে। মার্কিন অবরোধের জবাবে ইরান ইতোমধ্যেই পারস্য উপসাগরের প্রবেশমুখ হরমুজ প্রণালী বন্ধ করার হুমকি দিয়েছে।
শুধু তাইই নয় ইতোমধ্যে হরমুজ এলাকায় ইরানের সামরিক ইতিহাসের সবচেয়ে বড় নৌমহড়া দিয়ে তাদের সামর্থ্যও জানিয়ে দিয়েছে ইরান।
এখন হরমুজ প্রণালী বন্ধের হুমকি বাস্তবায়ন করতে হলে ইরানকে রীতিমতো সামরিক সংঘাতে যেতে হবে। আর এর জন্য পশ্চিমা জাহাজ চলাচলে বাধা দিতে তারা প্রচলিত পদ্ধতিতেই দ্রুতগামী স্পিডবোট, ক্ষেপণাস্ত্র অথবা জলমাইন ব্যবহার করবে বলেই মনে করছে সমর বিশারদরা।
তবে মার্কিন সেন্টার ফর নেভাল এনালাইসিসের বিশেষজ্ঞ মাইকেল কনেল ইরানের মাইন ব্যবহারের সম্ভাবনাকেই এগিয়ে রাখছেন।
আর এর জবাবেই মার্কিন নৌবাহিনী যুদ্ধক্ষেত্রে নামাবে মানুষের বন্ধুসুলভ নিরীহ সামুদ্রিক প্রাণী ডলফিন!
তবে অ্যাডমিরাল টিম কিটিং স্বীকার করেন, মানুষের প্রিয় জলজপ্রাণী ডলফিনকে সামরিক প্রয়োজনে ব্যবহার অনেকের কাছে আপত্তিকর হতে পারে। কিন্তু তার মতে, হরমুজ প্রণালী অবরোধ ঠেকাতে এটাই হতে পারে মোক্ষম অস্ত্র।
এই পদ্ধতিটি অপেক্ষাকৃত কম প্রচারিত (হয়ত উদ্দেশ্য প্রণোদিত) হলেও এর সাফল্য সন্দেহাতীত বলে জানিয়েছেন টিম। ইরাক অভিযানের সময় মাইন সুইপার ডলফিন বেশ কাজ দিয়েছিল।
টিম আরো জানান, প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত ডলফিনগুলো লক্ষবস্তুর অনেক দূর থেকে এবং পানির ৩৭০ মিটার গভীর পর্যন্ত মাত্র তিন ইঞ্চির লৌহখণ্ডও সনাক্ত করতে পারে। অথচ প্রচলিত মাইন সুইপারগুলোর পক্ষে এই দক্ষতা এখনও নাগালের বাইরে।
মার্কিন সেন্টার ফর নেভাল এনালাইসিসের তথ্য মতে, মার্কিন নৌবাহিনীর হাতে এরকম কয়েকশ’ ডলফিন রয়েছে। শুধু সান দিয়েগো বে প্রশিক্ষণ কেন্দ্রেই রয়েছে প্রায় ৮০টি ডলফিন।
প্রসঙ্গত, প্রকৃতিগত ভাবেই ডলফিন মানুষের সাহচর্য ভালবাসে। এদের প্রভু ভক্তিও প্রশংসাযোগ্য। এই নিরীহ প্রাণীদের সামরিক কাজে ব্যবহারের বিরুদ্ধে সোচ্চার প্রাণী অধিকার সংরক্ষণ গ্রুপগুলো। তারা যুদ্ধক্ষেত্রে ডলফিনের ব্যবহার নিষিদ্ধ করার পক্ষে আন্দোলন করে যাচ্ছে।
বাংলাদেশ সময়: ১৯১৪ ঘণ্টা, জানুয়ারি ২১, ২০১২