আঙ্কারা: ফ্রান্সের সিনেটে আর্মেনিয়া গণহত্যা আইন অনুমোদন পাওয়ায় তুরস্কে ব্যাপক জণরোষের সৃষ্টি হয়েছে। আইনটিতে প্রথম বিশ্বযুদ্ধে অটোম্যান তুর্কি বাহিনীর হাতে আর্মেনিয়ার অধিবাসীরা গণহত্যার শিকার হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়।
বিল পাশের প্রতিক্রিয়া হিসেবে তুরস্কের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই সিদ্ধান্তকে ‘দায়িত্বহীন’ এবং দ্রুতই পাল্টা উত্তর দেওয়া হবে বলে জানায়।
ফ্রান্স সিনেটে আর্মেনিয়া গণহত্যা সংক্রান্ত বিলটি ১২৭-৮৬ ভোটে অনুমোদন পায়।
এদিকে অর্মেনিয়া জানায়, ১৯১৫-১৬ খ্রিষ্টাব্দের দিকে তুরস্কের অটোম্যান সাম্রাজ্য ভেঙ্গে যাওয়ার সময় প্রায় ১৫ লাখ আর্মেনিয় তুরস্কের সেনাদের হাতে মারা যায়।
তবে তুরস্ক এই অভিযোগ বাতিল করে দেয় এবং নিহতের সংখ্যা বাস্তবে অনেক কম বলেও জানায়।
সিনেট থেকে অনুমোদন পাওয়া বিলটি এখনও পরিপূর্ণভাবে আইন হয়নি। কারণ বিলটিতে এখনও স্বাক্ষর করেনি ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট নিকোলাস সারকোজি। ফেব্রুয়ারি মাস শেষ হওয়ার আগেই সারকোজি এই বিলে স্বাক্ষর করবেন বলে জানা গেছে।
তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ফ্রান্সের এই পদক্ষেপ দুই দেশের সম্পর্কে বেশ টানাপোড়েন সৃষ্টি করবে। কারণ তুরস্ক এবং ফ্রান্স দুজনেই ন্যাটোর সদস্য।
তুরস্কের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের প্রধান ভলকান বুজকির তার টুইটার বার্তায় বলেন, ‘ফ্রান্স তার ইতিহাসে একটি কালো অধ্যায় সূচনা করলো। ’
তুরস্কের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে এক বিবৃতিতে জানানো হয়, ফ্রান্সে অনুষ্ঠিত আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখে এই সিদ্ধান্তটি নেওয়া হয়েছে। তুরস্কে প্রায় পাঁচ লাখ আর্মেনিয় বাস করে। আমরা এই সিদ্ধান্তের তীব্র নিন্দা জানাই। কারণ এই সিদ্ধান্ত এক প্রকার দায়িত্বহীনতারই নামান্তর।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, তুরস্ক এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে যথাযথ পদক্ষেপ নেবে।
মঙ্গলবার তুরস্কের সংসদে এ বিষয়ে পাল্টা বক্তব্য দেবেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী রিসেপ তায়েপ এরদোগান।
বাংলাদেশ সময়: ১৩২৯ ঘণ্টা, জানুয়ারি ২৪, ২০১২