ঢাকা: ফ্যাসিস্ট সরকারের বিরুদ্ধে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে ২০ জুলাই গুরুতর আহত হন দুর্জয় আহমেদ এবং এতে দৃষ্টিশক্তি হারিয়ে ফেলেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে বাড্ডা থানায় গত ২০ নভেম্বর একটি মামলা করেন।
মামলায় তিনি উল্লেখ করেন, ফ্যাসিস্ট সরকারের দোসর বিদ্যুৎ ঘোষ ও কবীর আহমেদ তার চোখ নষ্ট হওয়ার জন্য দায়ী। কিন্তু মামলার এতদিন পরেও এজাহারভুক্ত আসামিরা এখনো দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন। দুর্জয় আসামিদের আইনের আওতায় এনে বিচারের জন্য প্রধান উপদেষ্টা, আইন উপদেষ্টাসহ প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করে সাংবাদিকদের মাধ্যমে একটি ভিডিওবার্তা দিয়েছেন।
তিনি বলেন, আমি আন্দোলনে আমার দৃষ্টিশক্তি হারিয়েছি। এরপরও আমার ওপর হামলাকারীরা বিচারের আওতায় আসেনি। বরং এজাহারভুক্ত আসামিদের মধ্যে বিদ্যুৎ ঘোষ ও কবীর আহমেদ প্রায়ই আমার বাসায় লোক পাঠিয়ে মামলা তুলে নেওয়ার জন্য হুমকি দিচ্ছেন। তার প্রত্যাশা, অপারেশন ডেভিল হান্টের মাধ্যমে বিদ্যুৎ ও কবীরসহ এজাহারভুক্ত আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তার হবেন। জানা গেছে, বাড্ডা থানায় শেখ হাসিনাসহ ৫০-৬০ জনকে আসামি করে মামলা করেছেন আহত মো. দুর্জয় আহমেদ।
মামলার অন্যতম আসামি করা হয়েছে কবির আহমেদ ও বিদ্যুৎ ঘোষকে। মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, ছাত্র-জনতার আন্দোলন দমন করতে গত ২০ জুলাই সকালে মধ্যবাড্ডা ইউলুপের নিচে পোস্ট অফিস গলির মাথায় তারা অবৈধ অস্ত্র দিয়ে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলি চালান।
আসামিদের ছোড়া গুলিতে দুর্জয়ের দুই চোখই অন্ধ হয়ে যায়। এর বাইরে তিনি মাথায়ও আঘাতপ্রাপ্ত হন। এ মামলায় কবির আহমেদকে অর্থের জোগানদাতা এবং বিদ্যুৎ ঘোষকে অস্ত্র সরবরাহকারী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে এই দুই আসামির বিরুদ্ধে বিধবার অর্থ আত্মসাৎ, জাল জালিয়াতি প্রতারণা অর্থ পাচারসহ নানা কেলেঙ্কারির অভিযোগে একাধিক মামলা রয়েছে।
বাংলাদেশ সময়: ০০২৫ ঘণ্টা, ফেব্রুয়ারি ২০, ২০২৫
জেএইচ