ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৩ ফাল্গুন ১৪৩১, ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৫, ২৭ শাবান ১৪৪৬

জাতীয়

১৯৭২ থেকে এ পর্যন্ত বাংলাদেশে সব ঘটনার শ্বেতপত্র প্রকাশ করা হোক: জামায়াত আমির

ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ১৮৪৭ ঘণ্টা, ফেব্রুয়ারি ২৬, ২০২৫
১৯৭২ থেকে এ পর্যন্ত বাংলাদেশে সব ঘটনার শ্বেতপত্র প্রকাশ করা হোক: জামায়াত আমির জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।

পঞ্চগড়: বাংলাদেশ সরকার এবং জাতিসংঘের যৌথ উদ্যোগে ১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি থেকে আজকের দিন পর্যন্ত বাংলাদেশে যত ঘটনা ঘটেছে সেগুলো অনুসন্ধান করে তার শ্বেতপত্র বাংলাদেশের জনগণের সামনে প্রকাশ করা হোক বলে দাবি করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।

এর আগে সনাতন ধর্মের এক নেতার বক্তব্য শুনে তিনি বলেছেন, বাংলাদেশের সব মানুষ মিলেমিশে থাকতে চাই, চলতে চাই।

এর মাঝেই আমাদের গর্ব ও সৌন্দর্য, এর মাঝেই আমাদের শান্তি। কীসের সংখ্যালঘু আর কীসের সংখ্যাগুরু। এই দেশে যে জন্ম নিয়েছে সেই এ দেশের গর্বিত নাগরিক। আমরা নাগরিকদের কোনো দলের বা ধর্মের ভাগবাটোয়ারা করার পক্ষে নই। এই বদ হাসলত ছিল অতীতের পতিত স্বৈরাচারের। তারা এই জাতিকে টুকরা টুকরা করে মুখামুখি লাগিয়ে রেখেছিল। যে দেশের জনগণ ঐক্যবদ্ধ থাকতে পারে না। সে দেশের মানুষ, মাথা সোজা করে বিশ্বের দরবারে দাঁড়াতেও পারে না।

বুধবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ১২টার সময় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর পঞ্চগড় জেলা শাখার আয়োজনে জনসভায় উপস্থিত হয়ে পঞ্চগড় চিনিকল মাঠে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেন, স্বাধীনতার ৫৪ বছর হয়ে গেল, আর কত বছর? এরকম আমাদের টুকরা টুকরা করে রাখা হবে। আমাদের স্পষ্ট ঘোষণা আমরা কোনো মেজরিটি ও মাইনরিটি মানি না। আমরা সবাই মিলে ইউনিটি। একটাই জাতি আমরা। আমাদের পরিচয় আমরা বাংলাদেশি। হ্যাঁ, তার পরেও আমাদের একটা পরিচয় থাকবে আমরা মুসলমান, তিনি একজন হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টান। আমরা সবাইকে নিয়ে চলার পক্ষে। বিশেষ করে আমরা মুসলমান ভাইদের বলবো আপনারা অন্য ধর্মের ভাই বোনদের কষ্ট দেবেন না। এটাকে আমরা ঘৃণা করি। আমরা সবাই এক হয়ে থাকতে চাই।

জামায়াত আমির আরও বলেন, ভারতসহ সব দেশ আমরা একই বিশ্ব সভার সদস্য। জাতিসংঘের সদস্য আমরা। ভারত আমাদের নিকটতম প্রতিবেশী। আমরা অহেতুক আমাদের প্রতিবেশীদের কষ্ট দিতে চাই না। তবে আমাদের প্রতিবেশীরা এমন কিছু আমাদের ওপর চাপিয়ে না দেন, যা বাংলাদেশের মানুষের জন্য অপমানজনক হয়। যদি এরকম কিছু তারা করে, দেশের স্বার্থে ভূমিকা পালন করতে সেদিন আমরা কারো চোখের দিকে তাকাবো না। আমরা বিবেকের দিকে তাকিয়ে বিবেকের দায়বদ্ধতা থেকে দায়িত্ব পালন করতে বাধ্য হব। যেহেতু পঞ্চগড় একটি কৃষিপ্রধান জেলা তাই এখানে কৃষি বিদ্যালয় গড়ে উঠলে শিক্ষার পাশাপাশি কর্মসংস্থান তৈরি হবে। উচ্চ শিক্ষা নিয়ে বেকারের মালা গলায় না নিয়ে কৃষিতে শিক্ষা নেওয়া ভালো। কারণ একজন কৃষিবিদের এক সেকেন্ড বসে থাকার সুযোগ নেই।

ডা. শফিকুর রহমান আরও বলেন, আমিও আপনাদের মতো একজন সাধারণ মানুষ। তবে আল্লাহ আমাকে একটা কণ্ঠ দিয়েছেন। যে দাবিটাকে আমি যুক্তিসম্মত মনে করি তার পক্ষেই আমি চিৎকার দেওয়ার চেষ্টা করি। আপনাদের দাবির সঙ্গে আমি একমত। এ দেশের ইসলাম প্রিয় জনগণের নেতৃত্বে যদি সরকার গঠন হয়। তাহলে আপনাদের দাবি হবে আমার দাবি। তখন দাবি আর উত্থাপন করতে হবে না।

আমরা বাংলাদেশকে একটা মানবিক বাংলাদেশ হিসেবে গড়ে তুলতে চাই। আমরা বাংলাদেশকে আর গডফাদার ও মাদারদের বাংলাদেশ দেখতে চাই না। মাফিয়াতন্ত্র ও ফ্যাসিবাদের বাংলাদেশ দেখতে চাই না। ২০০৬ সালের ২৮শে অক্টোবর থেকে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পর্যন্ত ফ্যাসিবাদীদের হাতে যতজন প্রাণ দিয়েছেন আমি তাদের প্রতি গভীর ভাবে শ্রদ্ধা নিবেদন করছি।

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান যুবক ও তরুণদের উদ্দেশ্যে বলেন, আমি যুবক ভাইদের বার্তা দিতে চাই। আগামীদিনের বৈষম্যহীন, দুর্নীতি-দুশাসনমুক্ত মানবিক বাংলাদেশ গড়ার জন্য তোমাদের আরেকবার গর্জে উঠতে হবে, জেগে উঠতে হবে। আমরা যদি এমন একটি বাংলাদেশের নাগরিক হতে পারি দেশে কিংবা প্রবাসে বলতে পারি। আমরা গর্বিত, আমরা বাংলাদেশের নাগরিক।  

এসময় পঞ্চগড় জেলা আমির অধ্যাপক মাওলানা ইকবাল হোসাইনের সভাপতিত্বে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আব্দুল হালিম, কেন্দ্রীয় কর্মপরিধি সদস্য অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান বেলাল, কেন্দ্রীয় ছাত্র শিবিরের সাবেক সভাপতি দেলোয়ার হোসেন সাঈদীসহ জামায়াত-ছাত্র শিবির নেতাকর্মী ও সমর্থকেরা উপস্থিত ছিলেন।

বাংলাদেশ সময়: ১৮৪৫ ঘণ্টা, ফেব্রুয়ারি ২৬, ২০২৫
আরএ

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।