ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৪ ফাল্গুন ১৪৩১, ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৫, ২৭ শাবান ১৪৪৬

জাতীয়

এই শহরে হাসি-কৌতুক নিষিদ্ধ ছিল: ফারুক ওয়াসিফ

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট  | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ১১৫৭ ঘণ্টা, ফেব্রুয়ারি ২৭, ২০২৫
এই শহরে হাসি-কৌতুক নিষিদ্ধ ছিল: ফারুক ওয়াসিফ কথা বলছেন পিআইবির মহাপরিচালক ফারুক ওয়াসিফ। 

ঢাকা: ঢাকা শহরে হাসি-কান্না ও কৌতুক নিষিদ্ধ ছিল বলে মন্তব্য করেছেন প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশের (পিআইবি) মহাপরিচালক (ডিজি) ফারুক ওয়াসিফ।

বুধবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় রাজধানীর গুলশানে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত ‘শহরের ভাষা-নগরের আড্ডা’ শীর্ষক সংলাপে আলোচক হিসেবে বক্তব্যকালে তিনি এ কথা বলেন।

 

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মোহাম্মদ এজাজের সভাপতিত্বে সংলাপে মুখ্য আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট লেখক, চিন্তক ও গবেষক অধ্যাপক ড. সলিমুল্লাহ খান। এছাড়াও আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ শর্টফিল্ম ফোরামের সভাপতি জহিরুল ইসলাম কচি, কন্টেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদির।  

ফারুক ওয়াসিফ বলেন, ঢাকা শহর হচ্ছে সেই শহর, একটা কবিতা আছে যে, জানালার লোভে ঘর দরজা বেচে দিলাম। আমরা ঝিল বানাই কিন্তু নদী হত্যা করি।  

তিনি আরও বলেন, এই শহর হচ্ছে নেটওয়ার্কের শহর। আমরা নেটওয়ার্ক তৈরি করি। ফেসবুকের নেটওয়ার্ক, নেটওয়ার্ক, ক্ষমতা, টাকা-পয়সার নেটওয়ার্ক, আনন্দ বিনোদনের নেটওয়ার্ক, মাস্তান এবং মাফিয়াদের নেটওয়ার্ক, এ শহরে আয়নাঘর এবং বালাখানারও নেটওয়ার্ক ছিল। এই যে নেটওয়ার্ক সোসাইটিতে আমরা চলে গেলাম। এর মাধ্যমে আমরা সমাজটাকে হারিয়ে ফেললাম।
 
পিআইবির মহাপরিচালক বলেন, মানব সভ্যতাও যা, নগরের পরিণতিও তাই। আমরা এই শহরকে তীর্থ বানাতে চাইলাম, ভালো ছাত্র-ছাত্রীরা, আশাবাদী মানুষেরা, বিপ্লবীরা, সারাদেশ থেকে সবাই ঢাকায় মানুষ পাঠাচ্ছিল। মানুষগুলো ঢাকায় এসে একটা সময় প্রাণীতে পরিণত হয়ে গেল। এই ঢাকা শহরে আমাদের জীবন প্রাণীর জীবনের মতো হয়ে গেল।
 
তিনি বলেন, যিনি অনেক টাকা-পয়সা এবং বিত্তশালী তারও কিন্তু এখানে সমাজ নেই, তার সমাজ বিদেশে। কানাডা-আমেরিকায় তাদের আত্মীয়-স্বজন থাকে, এজন্য ছুটি কাটাতে তাদের ওইসব জায়গায় যেতে হয়। তাদের সমাজটা দেশে নেই। ঢাকা শহরের ৮০/৯০ ভাগ মানুষ তাদের আমরা বাক্সে বন্দি করে ফেলেছি। এই যে রামপুরা, মিরপুর, মোহাম্মদপুর, বসিলায় ছোট ছোট বাক্সে তারা বন্দি থাকে। তারা যে বাসে যাতায়াত করে সেটাও মুরগির খোয়ারের মতো।
 
তিনি আরও বলেন, এই শহরে আমরা সত্যিকার অর্থে কাঁদতেও পারিনি। এত মানুষ গুম এবং বর্বর নির্যাতনের শিকার হয়েছে। এই শহরে কান্নাও নিষিদ্ধ ছিল। এই শহরে হাসিও নিষিদ্ধ ছিল, কৌতুক করার জন্যও এই শহরের মানুষ জেলে গিয়েছে। এই শহরে কৌতুক নিষিদ্ধ ছিল। কৌতুক আমরা করতে পারতাম না, কিন্তু কৌতুক একজন করত। একজন আমাদের সবকিছু নিয়ে বসে বসে বিভিন্ন জায়গায় কৌতুক করতো। তার জবাবও তিনি পেয়েছেন যে, নাটক কম কর প্রিয়। এটাও কিন্তু ঢাকার ভাষা।

বাংলাদেশ সময়: ১১৫৪ ঘণ্টা, ফেব্রুয়ারি ২৭, ২০২৫
আরকেআর/এএটি

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।