খুলনা: খুলনায় বস্তাবন্দি মরদেহের পরিচয় মিলেছে। তার নাম তাজকীর আহমেদ।
ফেসবুক মেসেঞ্জারে বার্তা লিখে তাজকীরকে ঢাকা থেকে খুলনায় ডেকে নেয় প্রেমিকার সাবেক স্বামী। পরে সুযোগ বুঝে রাতের আঁধারে খুন করে বস্তায় ভরে নদীতে ফেলে দেওয়া হয়।
শুক্রবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে ময়নাতদন্ত শেষে নিহতে মরদেহের বুঝে নেন নিহতের বাবা। এর আগে বৃহস্পতিবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) বিকেল সোয়া ৫টার দিকে তাজকীরের মরদেহ খানজাহান আলী থানাধীন গফফার ফুড বালির ঘাটে ভেসে উঠলে নড়েচড়ে বসে পুলিশ। তবে এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত নিহতের বাবার দায়ের করা অপহরণ মামলায় প্রেমিকাসহ ৩ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
গ্রেপ্তাররা হলেন - নিহত তাজকীরের প্রেমিকা সুরাইয়া আক্তার সীমা, ঘাতক অভির মা লাবনী বেগম এবং শহিদুল ইসলাম শহীদ।
খালিশপুর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) সিরাজুল ইসলাম জানান, নড়াইল জেলার লোহাগড়া উপজেলার ঝউডাঙ্গ এলাকার নওখোলা গ্রামের জনৈক মুরাদ হোসেনের ছেলে তাজকীর আহমেদ। খুলনা ম্যানগ্রোভ ইনস্টিটিউটে পড়াশুনা শেষ করে ঢাকা প্রাইম ইউনিভার্সিটিতে টেক্সটাইল বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র ছিলেন। পড়াশুনার পাশাপাশি তিনি ঢাকার কলাবাগান এলাকার একটি বাড়ির কেয়াটেকারের দায়িত্বে ছিলেন।
তিনি আরও বলেন, খুলনায় লেখাপড়াকালীন তাজকীরের বাবার চাচাতো ভাইয়ের ছেলে এখলাছুর রহমান রনির সঙ্গে সীমার বড়বোনের বিয়ে হয়। এভাবে সীমার সঙ্গে তাজকীরের পারিবারিক পরিচয় হয়। ধীরে ধীরে তাজকীর সীমার প্রতি দুর্বল হতে থাকে। এক সময়ে তাকে প্রেমের প্রস্তাব দিলে সীমা গ্রহণ করেন। কিন্তু সীমার আগে একটি বিয়ে ছিল সেটা জানতেন না তাজকীর। তিনি জানতেন না সীমার সাবেক স্বামী অভি খালিশপুর এলাকার একজন বখাটে। পরিবারের চাপে সীমা ও অভি আলদা হয়ে যায়। এর পর অভি দেশের বাইরে চলে যায়। কিন্তু ভাই রনি শালিকাকে সুপাত্রস্থ করার জন্য সীমাকে তাজকীরের পেছনে লেলিয়ে দেয়। তাদের উভয়ের প্রেমের সম্পর্কের স্থয়িত্বকাল ছিল দেড় বছরের মতো। গত কয়েকদিন আগে তাজকীরের বাবা বিষয়টি আঁচ করতে পেরে ছেলেকে এ সম্পর্ক থেকে বের হয়ে আসতে বলেন। এর মধ্যে সীমার সাবেক স্বামী অভি দেশে ফিরে আসে। সীমার সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করে। সীমাও একইসঙ্গে তাদের দু’জনের সঙ্গে কথপোকথন চালিয়ে যেতে থাকে। এ কারণে সীমা একইসঙ্গে দু’টি ফোন ব্যবহার করতে থাকে। পরে সীমার সাবেক স্বামী ঘটনাটি টের পায় এবং তাদের উভয়ের মধ্যে ঝগড়া বিবাদ হয়। হত্যাকাণ্ডের কায়েকদিন আগেও তাজকীরকে ফোন করে বিভিন্ন ধরনের হুমকি দেয়।
এসআই সিরাজুল ইসলাম বলেন, ২১ ফেব্রুয়ারি দুপুর ৩ টার দিকে নিহত তাজকীরের মামাতো ভাই আসিফের স্ত্রী শারমিনকে জানায় তিনি খুলনায় আসছেন এবং তার গাড়ি তখন বাগেরহাটে অবস্থান করছে। দুপুর ৪ টার দিকে তিসি মামাতো ভাইয়ের বাড়িতে যান। পরবর্তীতে ভাবীকে জানায় সীমা খুব জরুরিভিত্তিতে দেখা করার জন্য খুলনায় ডেকেছেন এবং খালিশপুর থানাধীন বিআইডিসি রোডস্থ নিউজপ্রিন্ট মিল গেটের বিপরীতে এতিমখানার সামনে যাচ্ছেন। কিন্তু তখনও তাজকীর জানতেন না অভি সাবেক স্ত্রীর মেসেঞ্জার ব্যবহার করে তাকে হত্যার জন্য এভাবে ডেকে নিচ্ছে। ওই মাদ্রাসার সামনে থেকে ডেকে নিয়ে অভি বাড়িতে নিয়ে গিয়ে রাতে তাজকীরকে হত্যা করে। পরবর্তীতে সুযোগ পেয়ে তাকে বস্তাবন্দি করে রাতের আঁধারে যে কোনো সময় নদীতে ফেলে দেন। এর আগে রাত ৮ টা থেকে নিহতের বাবা তাকে একাধিকবার ফেন দিয়ে না পেয়ে থানায় পরেরদিন থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন এবং পরবর্তীতে অপহরণ মামলা দায়ের করেন।
তিনি বলেন, খানজাহান আলী থানায় উদ্ধার হওয়া মরদেহের খবর পেয়ে তারা খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গিয়ে তাজকীরকে শনাক্ত করে। তবে এ ঘটনার মূল নায়ক অভি পলাতক রয়েছেন। তাকে ধরতে পারলে হত্যার রহস্য জানা যাবে। অপহরণ মামলাটি পরবর্তীতে হত্যা মামলায় রূপান্তরিত হবে।
বাংলাদেশ সময়: ২১৪০ ঘণ্টা, ফেব্রুয়ারি ২৮, ২০২৫
এমআরএম