গাজীপুর: গাজীপুর সিটি করপোরেশনের ভোগড়া বাইপাস মোড় এলাকায় একটি পোশাক কারখানার ছাদ থেকে লাফ দিয়ে আফসানা আক্তার (২৩) নামে এক তরুণী আত্মহত্যা করেছেন। এ ঘটনার জেরে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরোধ করেছেন শ্রমিকরা।
সোমবার (৩ মার্চ) সকাল থেকে শ্রমিকরা মহাসড়কটি অবরোধ করে রাখেন।
আত্মহত্যা করা আফসানা টাঙ্গাইলের বাসিন্দা হৃদয় হোসেনের স্ত্রী। তিনি ভোগড়া বাইপাস মোড় এলাকায় প্যানারোমা অ্যাপারেলস লিমিটেডে জুনিয়র অপারেটর পদে চাকরি করতেন।
শ্রমিকদের জানান, রোববার (২ মার্চ) কারখানার ছয়তলার ছাদ থেকে লাফ দিয়ে আত্মহত্যা করেন আফসানা। পরে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।
শ্রমিকদের অভিযোগ, তারা জানতে পেরেছেন- কারখানার ভেতর অসুস্থ হয়ে আফসানা ছুটির জন্য আবেদন করেন। কিন্তু কর্তৃপক্ষ তাকে ছুটি দেয়নি। এ ক্ষোভে তিনি ছাদ থেকে লাফ দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। এরই জেরে শ্রমিকরা সোমবার সকাল থেকে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করেন। বেলা ১১টা পর্যন্ত অবরোধ অব্যাহত রয়েছে।
যদিও আত্মহত্যার কারণ হিসেবে ভিন্ন বক্তব্য পুলিশের। মহানগরের বাসন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কায়সার আহমেদ জানান, আফসানা আক্তার গার্মেন্টসে চাকরি করতে চাননি। তার স্বামী হৃদয় তাকে চাকরি করতে বাধ্য করেন। এর জেরে আফসানা আক্তার কারখানার ছাদ থেকে লাফ দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন।
এ ঘটনায় তার স্বামী হৃদয়কে আটক করা হয়েছে জানিয়ে ওসি বলেন, এ ব্যাপারে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।
বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো হচ্ছে, বলছে কারখানা কর্তৃপক্ষ
এদিকে, আফসানার মৃত্যুর ঘটনায় বিবৃতি দিয়েছে প্যানারোমা অ্যাপারেলস লিমিটেড। তারা বলেছে, গত ২ মার্চ আমাদের এক কর্মীর দুঃখজনক মৃত্যুতে আমরা স্তব্ধ ও গভীরভাবে শোকাহত। এই কঠিন সময়ে তার পরিবার ও প্রিয়জনদের প্রতি আমাদের আন্তরিক সমবেদনা। যেকোন প্রয়োজনে সহযোগিতায় আমরা তার পরিবারের পাশে রয়েছি। এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তে আমাদের পূর্ণ সমর্থন রয়েছে এবং প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে আমরা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সম্পূর্ণ সহযোগিতা করতে প্রস্তুত রয়েছি।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, দুর্ভাগ্যবশত এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো হচ্ছে; যেখানে দাবি করা হচ্ছে ছুটি মঞ্জুর না করার কারণে এমন ঘটনা ঘটে—যা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। দুঃখজনক এ ঘটনার সঙ্গে কোনোভাবেই কর্মীর কাজের কোনো সম্পৃক্ততা নেই। অসুস্থতার ছুটি না পেয়ে মৃত্যু এই বিষয়টি সত্যি নয়৷ ওই কর্মী কর্তৃপক্ষের কাছে কোনো ছুটি চায়নি৷ উল্লেখ্য, দায়িত্বশীল প্রতিষ্ঠান হিসেবে, প্যানারোমা অ্যাপারেলস লিমিটেড সব সময় এর কর্মীদের কল্যাণকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে বিবেচনা করে। ছুটি সংশ্লিষ্ট নীতিসহ কার্যক্রম পরিচালনায় আমরা সুনির্দিষ্ট নীতি ও মানদণ্ড অনুসরণ করি। দেশের শ্রম আইনের প্রতি আমরা সর্বোচ্চ শ্রদ্ধাশীল এবং কঠোরভাবে আন্তর্জাতিক শ্রম মানদণ্ড মেনে চলি। ১৯৯১ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে আমরা নিষ্ঠা, সততা ও স্বচ্ছতার সঙ্গে আমাদের কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছি, যার মাধ্যমে, আমরা আমাদের কর্মী ও ক্রেতাসহ সকল অংশীজনদের বিশ্বাস ও আস্থা অর্জন করেছি।
প্যানারোমা অ্যাপারেলস লিমিটেডের বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, পুলিশ প্রাথমিক তদন্তে বলছে, এটি আত্মহত্যার ঘটনা। পারিবারিক কলহের জেরে ঘটতে পারে৷ এছাড়াও, ঘটনাটি নিয়ে আইনি প্রক্রিয়ায় তদন্ত করা হচ্ছে, এমন সময়ে আমরা সবাইকে বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানাই। যেকোন মিথ্যা ও অপতথ্য শোকাহত পরিবারের সদস্য ও সহকর্মীদের জন্য মানসিকভাবে পীড়াদায়ক।
বাংলাদেশ সময়: ১২০৮ ঘণ্টা, মার্চ ৩, ২০২৫
আরএস/জেএইচ