ঢাকা, সোমবার, ১৬ চৈত্র ১৪৩১, ৩১ মার্চ ২০২৫, ০০ শাওয়াল ১৪৪৬

জাতীয়

কৈলাশগঞ্জের চড়া নদী খননে অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ২১৩৭ ঘণ্টা, মার্চ ২৭, ২০২৫
কৈলাশগঞ্জের চড়া নদী খননে অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ চড়া নদী খনন করা হচ্ছে।

খুলনা: স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) তত্ত্বাবধানে কৈলাশগঞ্জ এলজিইডি পানি ব্যবস্থাপনা সমবায় সমিতি কর্তৃক চড়া নদী খননের অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে।  

এ বিষয়ে বৃহস্পতিবার (২৭ মার্চ) খুলনা জেলা প্রশাসক বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন কৈলাশগঞ্জ ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের তরঙ্গ মণ্ডল, জাহিদুল ইসলাম, কৈলাশগঞ্জ ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের জুয়েল মণ্ডল, নান্না হাওলাদারসহ প্রায় দুই শতাধিক গ্রামবাসী।

 

ওই অভিযোগপত্রে চড়া নদী খননের অনিয়ম ও দুর্নীতির তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য দাবি জানিয়েছেন দাকোপ উপজেলার ৪ নম্বর কৈলাশগঞ্জ ইউনিয়নের প্রশাসক ডা. বঙ্কিম কুমার হালদার, ১ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য গাজী ফয়সাল আলম, ২ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য অশোক কুমার গাইন, ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য অমিত মণ্ডল, ৪ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য রবীন্দ্রনাথ মণ্ডল, ৫ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য অনাদী গাইন, ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য প্রবীর মণ্ডল, ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য সুখেন্দু রপ্তান, ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য স্বপন মণ্ডল, সংরক্ষিত মহিলা সদস্য-১ কনক লতা বিশ্বাস, সংরক্ষিত মহিলা সদস্য-২ মিনা মণ্ডল, সংরক্ষিত মহিলা সদস্য-৩ কল্পনা রায় প্রমুখ।

লিখিত অভিযোগে তারা বলেন, আমরা দাকোপ উপজেলার ৪ নম্বর কৈলাশগঞ্জ ইউনিয়নের চড়া নদীর দুই পাড়ের সুবিধাভোগী জনসাধারণ কৈলাশগঞ্জ ইউনিয়নের কৈলাশগঞ্জ গ্রামের পশ্চিমপাড়া ও রামনগর ১ নম্বর ওয়ার্ডের মাঝ দিয়ে চড়া নদী প্রবাহিত। বিগত দিনে আমরা দেখেছি এলজিইডি নামে ঘোলের খাল পানি ব্যবস্থাপনা সমিতির নামে তৎকালীন আওয়ামী লীগের দুর্নীতিগ্রস্ত অসাধু সদস্য, সদস্যা দিয়ে গোপনে কমিটি বানিয়ে খাল খননের নামে কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছে। কাউকে তখন কোনো হিসাব দেওয়া লাগেনি। মাটি কাটার নামে তকতা, মই দিয়ে হেচা টেনে খাল খনন দেখিয়েছে। খাল খননের নামে নদীর দুই তীরের সব গাছ পালা কেটে গোটা এলাকা মরুভূমিতে পরিণত করেছিল। নদীর মাটি নদীতেই পড়ে ছিল। খাল খননের নামে সরকারি কোটি কোটি টাকা লোপাট করে নিয়েছিল। তখন প্রতিবাদ করার মতো কেউ ছিল না। তারপরও যারা ওই সময় প্রতিবাদ করেছিল তাদের এলাকা ছাড়া করা ও জীবন নাশের হুমকি দেওয়া হয়েছিল। বর্তমানেও সেই প্রকল্পের নামে চড়া নদীর সব পানি শুকিয়ে দুই তীরের কয়েক হাজার একর তরমুজের ভরা মৌসুমে কৃষকের নাভিশ্বাস তুলে দিয়েছে এ সরকারি টাকা লুটতরাজকারী চক্র। ঘোলের খাল পানি ব্যবস্থাপনা সমবায় সমিতির নিয়ম অনুযায়ী ওই সমিতির ১০টি গ্রুপের অর্থাৎ চড়া নদীর দুই তীরবর্তী গরিব, অসহায় দরিদ্র মানুষদের দিয়ে খাল খনন করে তাদের কায়িক শ্রমের মূল্য হিসেবে সুবিধা দেওয়ার কথা থাকলেও দুই তীরের তথা সমিতির কোনো সদস্য ছাড়াই মুষ্টিমেয় কয়েকজন কুচক্রী মহল অতিগোপনে সরকারি টাকা পুনরায় লোপাট করার উদ্দেশে তারা স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তির কাছে চুক্তিবদ্ধ হয়ে মাটি কাটার ভেকু মেশিন দিয়ে খাল খননের নামে প্রহসন শুরু করেছে। সেই আগের মতো তারা নদীর দুই তীরের অগণিত গাছ কেটে সরকারি রাস্তা কেটে তাণ্ডব চালাচ্ছে। ভেকু মেশিন দ্বারা পলি মাটি কেটে নদীতেই রেখে দেওয়া হচ্ছে। আমরা গ্রামের স্থানীয় মানুষ তাদের এ কু-কর্মের প্রতিবাদ করলে আমাদের কোনো কথায় কর্ণপাত না করে তারা তাদের ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়ে যাচ্ছে। দ্রুত এ কাজ বন্ধ না করতে পারলে আমরা চরম ক্ষতিগ্রস্ত হবো। আমরা চাই নদীর দুই তীরের সর্বসাধারণের মতামতের ভিত্তিতে সমিতির সব সদস্যের সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমে সঠিক ও স্বচ্ছতার সহিত খাল খনন হোক।

বাংলাদেশ সময়: ২১৩৪ ঘণ্টা, মার্চ ২৭, ২০২৫
এমআরএম/আরবি

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।