ঢাকা, সোমবার, ১৭ চৈত্র ১৪৩১, ৩১ মার্চ ২০২৫, ০০ শাওয়াল ১৪৪৬

জাতীয়

৩ মে ঢাকায় মহাসমাবেশ করবে হেফাজতে ইসলাম

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ২১০৩ ঘণ্টা, মার্চ ২৮, ২০২৫
৩ মে ঢাকায় মহাসমাবেশ করবে হেফাজতে ইসলাম

ঢাকা: আগামী ৩ মে ঢাকায় মহাসমাবেশ আয়োজনের ঘোষণা দিয়েছে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ। শাপলা চত্বরে গণহত্যা, পিলখানা হত্যাকাণ্ড, গুম-খুন, ২০২১ সালে মোদীবিরোধী আন্দোলন ও চব্বিশের ছাত্রজনতার ফ্যাসিবাদ বিরোধী আন্দোলনে গণহত্যার বিচার এবং হেফাজতে ইসলামের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের আমলে দায়ের করা সকল মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে এ মহাসমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে।

 

এছাড়া আগামী জুন মাসে সকল জেলা ও মহানগর প্রতিনিধিদের নিয়ে জাতীয় সম্মেলন করবে সংগঠনটি।

শুক্রবার (২৮ মার্চ) আজ বিকেল ৩টায় জামিয়া মাদানিয়া বারিধারা মাদরাসা মিলনায়তনে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় খাস কমিটির এক জরুরি সভায় এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সংগঠনের মহাসচিব মাওলানা সাজিদুর রহমানের সভাপতিত্বে সভা অনুষ্ঠিত হয়।

এতে জাতিসংঘের ফ্যাক্ট-ফাইন্ডিং মিশনের প্রতিবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আওয়ামী লীগকে রাষ্ট্রীয়ভাবে নিষিদ্ধ করতে অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে প্রস্তাব রাখা হয়।

সভায় বক্তারা বলেন, ফ্যাসিস্ট হাসিনা ও তার দল এদেশে ষোলোটি বছর মানবতাবিরোধী অপরাধ করেছে। বাংলাদেশের মাটিতে অবৈধ ক্ষমতা টিকিয়ে রাখতে গিয়ে আওয়ামী লীগ দল হিসেবেই সন্ত্রাস ও মানবতাবিরোধী অপরাধে জড়িত ছিল। দেশে গুম, খুন, সন্ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছিল। ২০০৯ সালের সন্ত্রাস দমন আইনে প্রশাসনিক আদেশের মাধ্যমে এবং ১৯৭৮ সালের ‘দ্য পলিটিক্যাল পার্টিস অর্ডিন্যান্স, ’ অনুযায়ী সরকার চাইলে আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করতে পাবে।

হেফাজতের নেতারা ইসলাম, দেশ ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় সকল ইসলামী দল ও ওলামায়ে কেরামের ঐক্যের ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, বাংলাদেশের সাধারণ মুসলমানরা একটি বিভীষিকাময় পরিস্থিতিতে বাস করছে। সমাজে, রাষ্ট্রে, সব জায়গায় ইসলাম ও ইসলামপ্রিয় জনগণকে কোণঠাসা করার সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চলছে। দেশের সাংস্কৃতিক অঙ্গনেও বইছে বিজাতীয় সংস্কৃতির আগ্রাসন। ভারত থেকে মাদকদ্রব্যের পাশাপাশি অশ্লীলতাও আসছে বন্যার পানির মত। রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ অফিস আদালতে বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থার এজেন্টরা জোরেশোরে কাজ করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সবকিছু মিলিয়ে দেশের মুসলমানরা এক ভয়ংকর পরিস্থিতির মধ্যে বসবাস করছে। তাই জাতির এই ক্রান্তিলগ্নে আলেমসমাজ ও ইসলামী শক্তির ঐক্যের বিকল্প নেই।

২০১৩ সালে ৫ মে শাপলা চত্বর ও ২১ সালে শহীদ ও আহত পরিবারকে সাহায্য করতে অনুরোধ জানান তারা।

হেফাজত নেতারা বলেন, পবিত্র রমজান আমাদের জন্য মোক্ষম সময়। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লামের মহানুভবতা, মানবতা ও আতিথেয়তার নীতি ও আদর্শ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে অসহায় বৃদ্ধ, দিনমজুর, মিসকিন ও পথশিশুদের মুখে একটুখানি হাসি ফোটানোর জন্য পবিত্র ঈদকে সামনে রেখে তাদের সহযোগিতায় দেশবাসীকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানাই।

সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন -  সংগঠনটির কেন্দ্রীয় নায়েবে আমির মাওলানা মাহফুজুল হক, ড. আহমদ আবদুল কাদের,  মাওলানা আহমাদ আলী কাসেমী, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা জুনাইদ আল হাবিব, যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা মুহাম্মাদ মামুনুল হক , মাওলানা আজিজুল হক ইসলামাবাদী,  অর্থসম্পাদক মাওলানা মুফতি মনির হোসাইন কাসেমী এবং ‌প্রচার সম্পাদক মুফতি কেফায়েতুল্লাহ আজহারী প্রমুখ।

বাংলাদেশ সময়: ২০৫৮ ঘণ্টা, মার্চ ২৮, ২০২৫
এসএএইচ

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।