ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২০ চৈত্র ১৪৩১, ০৩ এপ্রিল ২০২৫, ০৪ শাওয়াল ১৪৪৬

জাতীয়

ঈদের দিনেও সদরঘাটে ঘরমুখো মানুষের ভিড়, নেই ভোগান্তি

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট  | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ১৮৫১ ঘণ্টা, মার্চ ৩১, ২০২৫
ঈদের দিনেও সদরঘাটে ঘরমুখো মানুষের ভিড়, নেই ভোগান্তি

ঢাকা: পবিত্র ঈদুল ফিতরের দিন নামাজ আদায় করেই প্রিয়জনের ও পরিবার সঙ্গে ঈদ আনন্দ ভাগাভাগি করে নিতে গ্রামের উদ্দেশে ছুটছেন নগরবাসী। ঈদের দিন সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনালে স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে যাত্রী বেশি থাকলেও অতিরিক্ত কোনো চাপ ছিল না।

 

গত কয়েক বছরের মধ্যে এবারের ঈদযাত্রা সবচেয়ে বেশি স্বস্তিদায়ক ছিল বলে জানান যাত্রীরা ও লঞ্চ কর্তৃপক্ষ। তারা বলেছেন, এ বছর ছুটি বেশি হওয়াতে সাধারণ মানুষ ধীরে ধীরে ঢাকা ছাড়ছে। কোনোরকম ভোগান্তি ছাড়াই নিজ নিজ গন্তব্যে যাচ্ছে নগরবাসী। এছাড়া নিদিষ্ট সময়সূচি ও সব নিয়ম মেনেই ঘাট থেকে লঞ্চ ছাড়া হচ্ছে। ফলে অনেকটা স্বস্তি নিয়েই রাজধানী ছাড়ছে সাধারণ মানুষ।  

সোমবার (৩১ মার্চ) রাজধানীর একমাত্র নৌবন্দর সদরঘাটের লঞ্চের কর্মচারী ও যাত্রীদের সঙ্গে কথা বলে এ তথ্য জানা গেছে।

এদিন সদরঘাটে গিয়ে দেখা গেছে, আপনজনদের সঙ্গে ঈদ করতে রাজধানী ছাড়ছে মানুষ। বিকেল থেকেই রাজধানীর বিভিন্ন প্রান্ত থেকে সদরঘাট টার্মিনালে যাত্রীদের পদচারণায় ও লঞ্চস্টাফদের হাঁকডাকে মুখরিত হয়ে ওঠে লঞ্চ টার্মিনাল। স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় পন্টুনে যাত্রীদের ভিড় দেখা গেছে। তবে কোনো রকমের দুর্ভোগ ছাড়াই যাত্রীরা লঞ্চে উঠতে পারছেন। পন্টুনও আজ কিছুটা ফাঁকা ছিল। যাত্রীদের চলাচলে তেমন কোনো কষ্ট হয়নি। প্রতিটি লঞ্চ ধারণ ক্ষমতা অনুযায়ী যাত্রী নিচ্ছেন। পাশাপাশি সরকার নির্ধারিত ভাড়া নিচ্ছে৷ 

বিআইডব্লিউটিএ’র কর্মকর্তা ও লঞ্চ সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছে, ঈদের দিন সকালে যাত্রীদের চাপ তেমন থাকে না। দুপুরের পর থেকে যাত্রীদের চাপ বাড়লেও গতবছরের তুলনায় কম। এ সময়ে পন্টুনে পা ফেলার জায়গা থাকে না। সেখানে টার্মিনালের অনেক স্থানই ফাঁকা। অনেক লঞ্চ খালি পড়ে আছে। ছুটি বেশি হওয়ায় যাত্রীরা আগেই বাড়ি চলে গেছেন।  

এদিকে সদরঘাটে আসতে আগে যেমন গুলিস্তান, রায়সাহেব বাজার, ভিক্টোরিয়া পার্ক এলাকায় তীব্র যানজটের কাবলে পড়তে হতো। আজ সেখানে তেমন কোনো দুর্ভোগও পোহাতে হয়নি সাধারণ যাত্রীদের। এসব এলাকা একটু ফাঁকা থাকায় নির্বিঘ্নে যাত্রীরা গাড়ি কিংবা হেঁটে চলে আসতে পেড়েছে।  

ঢাকা-বেতুয়া (চরফ্যাশন) রুটের লঞ্চ এমভি ফারহান -৬ এর যাত্রী ফরহাদ বাংলানিউজকে বলেন, ঈদের ভিড় এড়াতে অতিরিক্ত ছুটি নিয়ে ঈদের নামাজ পড়ে বাড়ির উদ্দেশ্য রওনা হয়েছি। যাতে কোনোরকম দুর্ভোগ ছাড়াই পরিবার পরিজনদের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করে নিতে পারি। আজকে যাত্রীদের তেমন চাপ নেই। ছুটির দিন হওয়ায় রাস্তাঘাটও ফাঁকা ছিল, তেমন কোনো দুর্ভোগ পোহাতে হয়নি।

এ বিষয়ে এমভি ফারহান -৬ লঞ্চের কেরাণী মো. সোহেল বাংলানিউজকে বলেন, আজকে যাত্রীদের চাপ অনেক কম। আরো ২০০ লোক বসানো যাবে আমাদের লঞ্চে। আর ৭৩টা কেবিনের মধ্যে মাত্র ২৫ টা বুকিং হয়েছে। তবে ঈদের দিন হিসেবে যাত্রীদের ভিড় বলা যায়।

এম ভি তাসরিফ ১/২ এর কেরাণী মো. শিমুল কাজী বাংলানিউজকে বলেন, ঈদের দিন হওয়ায় সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত যাত্রীদের কোনো চাপ ছিল না। বিকাল থেকে যাত্রীদের চাপ বাড়তে থাকে। ছুটি বেশি হওয়াতে মানুষ আস্তে ধীরে গ্রামের বাড়ি যাচ্ছে। যাত্রীদের চাপ থাকলে পন্টুন এমন ফাঁকা থাকতো না। তবে স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে যাত্রী বেশি আছে। ঈদ সিজন হিসেবে যে আশা থাকে সে অনুযায়ী হয়নি। এখন তো নিয়ে যাচ্ছি ভালো, আসতে হবে খালি।  

তাসরিফ লঞ্চের যাত্রী মো. রাজিব বলেন, প্রতি বছরই আমরা ঈদের দিন বাড়িতে যাই, ব্যবসার কারণে চানরাতে বাড়ি যাওয়া সম্ভব হয় না। অন্যান্য বছরের তুলনা এ বছর সড়কে কোনো যানজট ছিল না। পরিবারের সদস্যদের আগেই বাড়ি পাঠিয়ে দিয়েছি, আজ বাড়ি যাব আশা করি ছুটি শেষে ঢাকা ফিরবো।

এমভি টিপু -১৩ এর কেরাণী মো. হারুণ বলেন, যাত্রী আছে মোটামুটি। সাড়ে ৮টায় লঞ্চ ছেড়ে যাবে। কিন্তু লঞ্চের অনেক কেবিন এখনও ফাঁকা আছে। ডেকেও আরো কিছু লোক নেওয়া যাবে। আজকে যাও আছে কালকে থেকে আরো কমবে ঢাকার যাত্রী। তবে ফিরতি যাত্রা শুরু হবে শুক্রবার থেকে। রাত সাড়ে ৮টায় ছেড়ে যাবে। তবে কাল আসতে হবে খালি, তেলের পয়সা উঠবে না।  

এমভি টিপু-১৩ লঞ্চে বেতুয়া, চরফ্যাসনের যাবেন মো. মনির হোসেন। তিনি বাংলানিউজকে বলেন, বাবা- মাকে নিয়ে ঈদ করতে বাড়ি যাচ্ছি।  গতকাল যাওয়ার কথা ছিল কিন্তু ভিড় হবে ভেবে যাইনি। তাই আজকে ঈদের নামাজ পড়েই লঞ্চঘাটে চলে এসেছি। এক সপ্তাহ থাকবো বাবা মায়ের সঙ্গে এর থেকে বড় আনন্দ আর কী হতে পারে। পরিবার নিয়ে যাচ্ছি। আজকে যাত্রী অনেক।  

ঈদের পর এতো যাত্রী খুব কমই হয় বলে জানান তিনি।  

পটুয়াখালী রুটে এম ভি জাহিদ -৩ নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা মো. শাহলম বলেন, ঈদের দিন হিসেবে যাত্রী মোটামুটি আছে। শুক্রবার থেকে ফিরতি যাত্রা শুরু হবে। মাঝের দুইদিন তেমন কোনো যাত্রী হবে না। তখন আমাদের তেলের দামই উঠবে না।

ঈদে বেড়াতে পটুয়াখালী শ্বশুরবাড়ি যাচ্ছেন মো. মোজ্জামেল হক। তিনি বাংলানিউজকে বলেন, এবারের মতো এতো সুন্দর ঈদযাত্রা আমি কখনো করিনি। সড়কে কোনো যানজট ছিল না। লঞ্চেও তেমন ভিড় নেই। তবে স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় ভিড় বেশি।

বিআইডব্লিউটিএ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ঈদ উপলক্ষে যাত্রীরা যা যাওয়ার ইতোমধ্যেই বাড়ি চলে গেছে। ঈদে ঘরমুখো মানুষের নিরাপত্তা দিতে পুলিশ, র‌্যাব, আনসার, নৌ-পুলিশ ও বিএনসিসিসহ বিভিন্ন সংস্থার সদস্যরা দায়িত্ব পালন করছেন। এবার ঈদের আগে বেশ কয়েকদিন ছুটি থাকায় যাত্রীরা ধীরে ধীরে ঢাকা ছাড়ছে। আশা করছি, নিরাপদে ও নির্বিঘ্নে গন্তব্যে পৌঁছতে পারবেন যাত্রীরা।

এ বিষয়ে লঞ্চ টার্মিনালে ট্রাফিক ও নিরাপত্তা নিয়ন্ত্রণের অফিসে বিএস এস এম মামুন বাংলানিউজকে জানান, আজ সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত দেশে ৪২ টি নৌরুটে ঢাকা থেকে লঞ্চ ছেড়ে গেছে ৩১ টি, ঢাকায় এসেছে ৫২টি লঞ্জ। আজ রাতের সব মিলিয়ে ৭০টির মতো লঞ্চ ঢাকা ছেড়ে যাবে। গতকাল পর্যন্ত ১১২টি লঞ্চ বিভিন্ন রুটে চলাচল করেছে। ঈদের দিন থেকে যাওয়ার যাত্রী কম থাকে, ঢাকাতে আসার যাত্রী বেশি থাকে।  

তবে এবছর ছুটি বেশি হওয়াতে শুক্রবার থেকে ঈদের ফিরতি যাত্রা শুরু হবে বলে জানান তিনি।  

বাংলাদেশ সময়: ১৮৩৪ ঘণ্টা, মার্চ ৩১, ২০২৫
জিসিজি/এসএএইচ

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।