ঢাকা: সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তুমুল আলোচিত প্রধান উপদেষ্টার প্রেসসচিব শফিকুল আলমের একটি মাফলার। মাফলারটির দাম ৮৬ হাজার ৬০০ টাকা দাবি করেন কেউ কেউ।
ভাইরাল সেই মাফলার সম্পর্কে প্রেসসচিব শফিকুল আলমে বলেন, ‘মাফলারটা আমার স্ত্রীর বোন কানাডা থেকে নিয়ে আসছেন। যে দাম বলা হচ্ছে সেটির ধারেকাছেও না। তবে খুব সস্তাও না। এটা অনেক বছর ধরে ব্যবহার করে আসছি। যখন এটি নিয়ে আলোচনা শুরু হয় তখন লেভেলটা দেখেছি। এটি আমার পছন্দের একটি মাফলার। ’
পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে বেসরকারি টেলিভিশন নিউজ২৪ এর ‘গল্পের ঈদ’ অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি। এ সময় সঙ্গে তার স্ত্রী সাবিনা জাহান লুনাও উপস্থিত ছিলেন। তিনি পেশায় একজন শিক্ষক। অনুষ্ঠানে দুজনই তাদের ঈদের পরিকল্পনা জানান।
অনুষ্ঠানে শফিকুল আলম জানান, বর্তমান প্রেসসচিবের দায়িত্ব অনেক। তিনি বলেন, ‘আগে যেসব প্রধানমন্ত্রী ছিলেন তাদের সঙ্গে যে সাংবাদিকের সখ্য ছিলেন তাকে এই পোস্ট দেওয়া হতো। তিনি খুব বেশি কাজ করতেন না। মাঝেমধ্যে বিদেশি ডিগনিটারি এলে তাদের জন্য কিছু আয়োজন করাই ছিল তার কাজ। কিন্তু আমাকে প্রচুর ইনফর্ম থাকতে হয়। সপ্তাহে তিনটি প্রেস ব্রিফিং করতে হয়, এজন্য তথ্য-উপাত্ত জোগাড় করতে হয়। সব সময় সতর্ক থাকতে হয়। আন্তর্জতিকভাবে প্রেসসচিবের কাজ অনেক। সেগুলোই আমি করে যাচ্ছি। এজন্য সবার কাছে মনে হচ্ছে আমি অনেক কাজ করছি। মূলত এটি আমার কাজ। ’
কখনও ভেবেছিলেন যে আপনি প্রেসসচিবের দায়িত্ব পালন করবেন - এমন প্রশ্নের উত্তরে শফিকুল আলম বলেন, ‘আমার মনে হয়নি। প্রফেসর ইউনূসের সঙ্গে আমার খুব বেশি হৃদ্রতা ছিল না। তার (ড. ইউনূস) প্রতি যে অন্যায়-অবিচার চাপিয়ে দেওয়া হয়েছিল, পেশাগত কারণে সেটা নিয়ে আমি কাভার করেছিলাম। সেই সূত্রেই উনি আমাকে চিনতেন। অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর হঠাৎ আমি একদিন ফোন পেলাম। জানতে চাওয়া হলো, আমি আগ্রহী কিনা। ’
অনুষ্ঠানে প্রেসসচিকের স্ত্রী সাবিনা জাহান লুনাকে জিজ্ঞেস করা হয়, সাংবাদিক শফিকুল আলম আর প্রেসসচিব শফিকুল আলমের মধ্যে কোনো পার্থক্য পেয়েছেন কিনা?
জবাবে তিনি বলেন, ‘আকাশপাতাল পার্থক্য পেয়েছি। আমাদের বিয়ের ২৫ বছর হয়ে গেছে। তবে গণ-অভ্যুত্থানের পর তাকে (শফিকুল আলম) অনেক পরিবর্তন হতে হয়েছে। আগে একদম পুরাই ফ্যামিলি ম্যান ছিলেন। এখন তো সারাক্ষণেই সরকারের কাজে আমাদেরকে একটু সময় কম দিচ্ছেন। তবুও আলহামদুলিল্লাহ তিনি দেশের জন্য করুক, এটাই চাওয়া। দেশের ভালো হোক। ’
তাদের দাম্পত্য সম্পর্কে বন্ধুত্বটা একটু বেশি জানিয়ে সাবিনা জাহান লুনা বলেন, ‘আমরা তো ক্লাসমেট ছিলাম। তাই আমাদের মধ্যে বন্ধুত্বটা একটু বেশি। আমাদের মধ্যে একজন একটু রেগে গেলে অন্য জন চুপ থাকি। ’
প্রেসসচিবের দায়িত্ব নেওয়ার অনেক হুমকি পাচ্ছেন শফিকুল আলম, ট্রলের শিকারও তিনি। বিষয়গুলো কীভাবে প্রভাবিত করে জানতে চাইলে প্রেসসচিবের স্ত্রী সাবিনা জাহান লুনা বলেন, ‘ভীষণভাবে ভয় পাই। মন খারাপ হয়। আমাকে খুব ভাবায়। তবে এখন আস্তে আস্তে অভ্যস্ত হয়ে গেছি।
নাগরিক হিসেবে হিসেবে গণ-অভ্যুত্থান ও অন্তর্বর্তী সরকারের সময় নিয়ে মূল্যায়ন জানতে চাওয়া হয় সাবিনা জাহান লুনার কাছে। তিনি বলেন, ‘যখন বাচ্চা বাচ্চা ছেলেদের হত্যা করা হচ্ছিল তা দেখে ট্রমাটাইজ হয়ে গিয়েছিলাম। আমার স্কুলের এক ছেলেও মারা গেল, আহনাফ। এদিকে উনিও কিছুটা থ্রেটে ছিলেন, ধরে নিয়ে যাবে কিনা। সেই টেনশনে ওই সময়টা খুব খারাপ গেছে। তারপর যখন বিজয় এলো তখন তো মনে হলো যে অনেক কিছুই হয়ে গেল। উনি যখন আমাকে বললেন যে, আমাকে ডাকছে অন্তর্বর্তী সরকার থেকে। আমি তখন কোনো কিছুই আর চিন্তা করি নাই, বললাম অন্তত দেশের সেবায় যাও। আর এমনি উনি ভালো মানুষ লোক ভালো সৎ মানুষ। ’
বাংলাদেশ সময়: ১৯৩৯ ঘণ্টা, এপ্রিল ০২, ২০২৫
এসএএইচ