ঢাকা: সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) সম্পাদক বদিউল আলম বলেছেন, নির্বাচন কমিশনার অন্ধ ও বধির। তিনি শুনতে ও দেখতে পান না।
রোববার (২৮ আগস্ট) দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবের মাওলানা মোহাম্মদ আকরাম খাঁ মিলনায়তনে ‘জাতীয় নির্বাচনে ইভিএমের উপযোগিতা’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন।
বদিউল আলম বলেন, ইভিএম একটি দুর্বল যন্ত্র। নির্বাচন কমিশন বলছে ইভিএমে কারচুপির সুযোগ নেই। এটি নির্ভুল প্রমাণের দায়িত্ব কমিশনের। ইভিএমের নিয়ন্ত্রণ বাইরের কারো হাতে না থাকলেও নির্বাচন কমিশন ও কর্তা ব্যক্তিদের হাতে আছে। ১৫০ আসনে ইভিএম দেওয়ার সিদ্ধান্তের ফলে কমিশন প্রতিটি মানুষের আস্থা হারিয়েছে।
তিনি আরও বলেন, নতুন ইভিএম কিনতে হলে অর্ধ বিলিয়ন ডলার ব্যয় করতে হবে। অন্যদিকে আমরা বর্তমানে চরম সংকটে আছি। সংকট নিরসনে সাত মিলিয়ন ডলার ঋণ নিচ্ছি। এমন অবস্থায় এটি কতটুকু যুক্তিযুক্ত আমার বোধগম্য নয়।
সুজন সম্পাদক বলেন, আমাদের শঙ্কা নির্বাচন কমিশনের সততা, বিশ্বাসযোগ্যতা ও ইভিএমের কারিগরি ত্রুটি নিয়ে।
অনুষ্ঠানে প্রবন্ধ উপস্থাপনে প্রযুক্তিবিদ ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব বলেন, ইভিএমের অন্যান্য বিষয়গুলো ডিজিটাল হলেও ফলাফল তৈরি প্রক্রিয়া ডিজিটাল নয়। ম্যানুয়াল হওয়ায় অস্বচ্ছতা ও কারচুপির সুযোগ আছে। কমিশনের ৭০ থেকে ৭৫টি আসনে ইভিএমে নির্বাচন করার সক্ষমতা আছে মাত্র। অর্থনৈতিক এ সংকটে নতুন করে ইভিএম কিনে ডলার খরচ করার কোনো যৌক্তিকতা নেই।
তিনি বলেন, নিখুঁত বায়োমেট্রিক ও এনআইডি সমস্যা থাকায় ইভিএম ব্যবহার সঠিক হবে না। মাত্র এক বছরের মধ্যে এ সমস্যা সমাধান সম্ভব নয়। এ সমস্যা মেশিনের নয় বরং সঠিক ডাটাবেজ সমস্যা।
আলোচনা সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন- সুজন সহ-সম্পাদক জাকির হোসেন, সাবেক সচিব আবদুল লতিফ মণ্ডলসহ বিশিষ্টজনরা।
বাংলাদেশ সময়: ১৫০০ ঘণ্টা, আগস্ট ২৮, ২০২২
এইচএমএস/আরবি