ঢাকা, রবিবার, ১৬ ভাদ্র ১৪৩২, ৩১ আগস্ট ২০২৫, ০৭ রবিউল আউয়াল ১৪৪৭

সারাদেশ

সবার জন্য খুলছে সুন্দরবনের দ্বার

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ১১:১০, আগস্ট ৩১, ২০২৫
সবার জন্য খুলছে সুন্দরবনের দ্বার

খুলনা: দীর্ঘ তিন মাস বন্ধ থাকার পর আবারও খুলে দেওয়া হচ্ছে সুন্দরবনের প্রবেশ দ্বার। সোমবার (১ সেপ্টেম্বর) থেকে সুন্দরবনে প্রবেশাধিকার দেওয়া হচ্ছে পর্যটক, বাওয়ালি, জেলে ও মৌয়ালদের।

জীববৈচিত্র্য রক্ষা, বন্য প্রাণী ও মাছের প্রজনন মৌসুম হওয়ায় জুন থেকে আগস্ট মাসের শেষ পর্যন্ত সুন্দরবনে পর্যটন থেকে শুরু করে সব ধরনের কার্যক্রম বন্ধ রাখে বন বিভাগ। মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী গত কয়েক বছর থেকে ওই কার্যক্রম চলছে। তিন মাস বন্ধ থাকার পর ১ সেপ্টেম্বর সেটি আবার খুলে দেওয়া হয়।

পর্যটকদের স্বাগত জানাতে সুন্দরবনের কটকা, কচিখালী, করমজল, হারবাড়িয়া ও আন্ধারমানিকসহ ১১টি পর্যটনকেন্দ্র সম্পূর্ণ প্রস্তুত রাখা হয়েছে। দর্শনার্থীদের জন্য সুন্দরবনে পর্যটনকেন্দ্রগুলোতে নিরাপত্তার ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বনে মাছ ধরতে যাওয়ার জন্য ফরেস্ট স্টেশনগুলোতে অনুমতি পত্রের জন্য ভিড় করছেন মৎস্যজীবীরা।

বন বিভাগের খুলনা অঞ্চলের বন সংরক্ষক ইমরান আহমেদ বাংলানিউজকে বলেন, তিন মাস বন্ধ থাকার পর আগামী ১ সেপ্টেম্বর থেকে উন্মুক্ত হচ্ছে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ ম্যানগ্রোভ সুন্দরবন। এর ফলে পর্যটক, মৎস্যজীবী ও বনজীবীরা অনুমতি নিয়ে সুন্দরবনে প্রবেশ করতে পারবেন। ইতিমধ্যে আমরা ট্যুর অপারেটর, লঞ্চ ও ট্রলার মালিকসহ সংশ্লিষ্টদের সাথে বৈঠক করে নির্দেশনা দিয়েছি যাতে সুন্দরবনে কোন ধরণের প্লাস্টিক বর্জ্য না ফেলে এবং নিয়ম মেনে যাতে পর্যটকরা সুন্দরবনে ভ্রমণ করেন।

ট্যুর অপারেটর অ্যাসোসিয়েশন অব সুন্দরবনের সাধারণ সম্পাদক নাজমুল আলম ডেভিড বাংলানিউজকে বলেন, দীর্ঘ তিন মাস বন্ধ থাকার পর সুন্দরবনের দ্বার খুলে দেওয়ায় ট্যুর সংশ্লিষ্টরা উচ্ছ্বসিত।  খুলনা থেকে আমাদের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের লঞ্চ ও জাহাজ প্রস্তুত আছে। প্রথম দিন ৪-৫টি জাহাজ সুন্দরবনের উদ্দেশ্যে রওনা দেবে।  আমরা আশা করছি প্রতি বছরের মতো এ বছরও সুন্দরবনপ্রেমী পর্যটকরা সুন্দরবন ভ্রমণ উপভোগ করতে পারবেন।

জানা যায়, সুন্দরবনে ২৪ ঘণ্টায় রূপ বদলায় ছয়বার। মৌয়াল, জেলে ও বাওয়ালি মিলে ২৫ থেকে ৩০ লাখ মানুষ সুন্দরবনের ওপর নির্ভরশীল। জাতিসংঘের ইউনেস্কো কমিশন ১৯৯৭ সালের ৬ ডিসেম্বর সুন্দরবনের কটকা-কচিখালী, নীলকমল, দক্ষিণ তালপট্টি দ্বীপ-মান্দারবাড়িয়া সমুদ্রসৈকত এ তিনটি জোনের ১ লাখ ৩৯ হাজার ৭০০ হেক্টর এলাকাকে পৃথিবীর ৫৫২তম বিশ্ব ঐতিহ্য (ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ) হিসেবে ঘোষণা করে।

সুন্দরবন প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও জীববৈচিত্র্যে ভরপুর। প্রায় ৬ হাজার ১৭ বর্গকিলোমিটার আয়তনের এই সুন্দরবন খুব ভোরে এক রূপ। দুপুরে অন্য রূপ। পড়ন্ত বিকালে আরেক রূপ। সন্ধ্যায় সাজে ভিন্ন রূপে। মধ্য ও গভীর রাতে সৌন্দর্য আরেক রকম। চাঁদনি রাতে এই বনের মোহনীয় রূপ পর্যটকদের মোহিত করে। কচিখালী সমুদ্রসৈকত থেকে সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত দেখার রয়েছে সুযোগ। সুন্দরবনে প্রতি বছর মধু আহরণ মৌসুমে অন্তত ১ হাজার মৌয়াল বনে প্রবেশ করেন। এ ছাড়া জেলে ও বাওয়ালি মিলে ২৫ থেকে ৩০ লাখ মানুষ এ বনের ওপর নির্ভরশীল। সুন্দরবনের মোট আয়তনের মধ্যে বনের পরিমাণ ৪ হাজার ১৪৩ বর্গকিলোমিটার ও জল ১ হাজার ৮৭৪ বর্গকিলোমিটার। এ বনে রয়েছে প্রায় ৪৫০টি নদনদী ও খাল। সুন্দরী, গেওয়া, পশুর, গরান, গোলপাতাসহ ৩৩৪ প্রজাতির গাছপালা, ১৬৫ প্রজাতির শৈবাল ও ১৩ প্রজাতির অর্কিড রয়েছে। বিশ্বখ্যাত রয়েল বেঙ্গল টাইগার, চিত্রল-মায়া হরিণ, লোনা পানির কুমির, অজগর, কচ্ছপ, বিশ্বের বিলুপ্তপ্রায় ইরাবতী ডলফিনসহ ৩৭৫ প্রজাতির বন্যপ্রাণী রয়েছে।

এর মধ্যে ৩২ প্রজাতির স্তন্যপায়ী, ৩৫ সরীসৃপ, আট উভচর ও ৩০০ প্রজাতির পাখি রয়েছে। ২০০৪ সালে ইউএনডিপির প্রাণী জরিপ অনুযায়ী, সুন্দরবনে রয়েল বেঙ্গল টাইগার আছে ৪৪০টি, হরিণ দেড় লাখ, বানর ৫০ হাজার, বন্যশূকর ২৫ হাজার, কুমির ২০০, উদ্বিড়াল ২৫ হাজার। ২১০ প্রজাতির সাদা মাছ, ২৬ প্রজাতির চিংড়ি, ১৩ প্রজাতির কাঁকড়া, ১ প্রজাতির লবস্টার ও ৪২ প্রজাতির মালাস্কা। এ বন থেকে প্রতিবছর মধু আহরণ করা হয় ১৫ থেকে ২০ হাজার মণ। বর্তমানে ছোটবড় ১২০টি ট্যুর অপারেটর প্রতিষ্ঠান সুন্দরবনে পর্যটকদের ভ্রমণ কাজে নিয়োজিত আছে। এদের রয়েছে আধুনিক উন্নত সুবিধাসংবলিত জলযান ও নিরাপত্তাব্যবস্থা। এর মধ্যে মানসম্মত ১৫-২০টি হবে। সুন্দরবনের করমজল বন্য ও কুমির প্রজনন কেন্দ্র, হারবাড়িয়া ইকো সেন্টার, কটকা, কচিখালী ও নীলকমল অভয়ারণ্য, শেখেরহাট টেম্বপল, কলাগাছিয়া ইকো ট্যুরিজম সেন্টার, মান্দারবাড়িয়া অভয়ারণ্য নামের স্পটগুলো পর্যটকদের জন্য নির্ধারিত।

 

 

এমআরএম

 

 

 

 

 

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।