কুষ্টিয়া: ভাদ্র মাস। পাকা ধানের দোলায় মাঠে যেন আনন্দের বন্যা বইছে।
কিন্তু, হায়! সুবিধার ছিটেফোটাও পাচ্ছেন না কৃষক। উল্টো শ্রমিক সংকট আর বাড়তি মজুরির ফায়দা তুলতে শুরু করেছেন হার্ভেস্টার মালিক ও মিল মালিকেরা অনৈতিক সিন্ডিকেট গড়ে তুলে। সিন্ডিকেটের কবলে পড়ে এবার কৃষক কম দামে ধান বিক্রি করতেও বাধ্য হচ্ছেন।
কম্বাইন্ড হার্ভেস্টার দিয়ে কম সময়ে ও অর্ধেক খরচে এসব কাজ করা সম্ভব বলে জানিয়েছেন মালিক ও কৃষক। কিন্তু, এটাকেই পূঁজি করেছেন কুষ্টিয়ার খাজানগর এলাকার মিল মালিক এবং কম্বাইন্ড হার্ভেস্টার মালিকেরা।
তারা হার্ভেস্টার ব্যবহারের জন্য কৃষকের কাছে গত বছরের তুলনায় বেশি অর্থ দাবি করার পাশাপাশি শর্ত জুড়ে দিয়েছেন তাদের কাছেই ধান বিক্রি করতে হবে। না হলে হার্ভেস্টার ভাড়া দেওয়া হবে না। বাধ্য হয়ে সিন্ডিকেটের বেধে দেওয়া মূল্যে গোলার ধান তাদের হাতে তুলে দিতে হচ্ছে।
কৃষক রফিকুল ইসলাম বলেন, এক বিঘা জমিতে শ্রমিক দিয়ে ধান কাটতে খরচ হয় পাঁচ হাজার টাকা। আর মেশিন দিয়ে কাটলে খরচ হয় দুই হাজার টাকা। গত বছর এক বিঘার জন্য হার্ভেস্টারের ভাড়া নেওয়া হতো এক হাজার চারশ’ টাকা। মালিকরা সিন্ডিকেট করে এবার দুই হাজার টাকা নিচ্ছে।
কৃষক বিশারত আলী বলেন, ‘ধান কাটা মেশিন মালিকের কাছে জিম্মি আমরা। তারা নিজেদের ইচ্ছামতো ধান কাটে। ওরা যে দাম বলে সেই দামে বিক্রি করলে ধান কাটে, না হলে কাটে না। আমি চার দিন ঘুরছি ধান কাটার জন্য’।
কৃষক জাহাঙ্গীর বলেন, যে ব্যাপারি ধান কেনেন তিনিই হার্ভেস্টার মেশিন নিয়ে এসে মাঠ থেকে ধান কেটে নিয়ে যান। এই সুযোগে হার্ভেস্টার ভাড়ার টাকা তারা কেটে রাখেন কৃষকের কাছ থেকে। ব্যবসায়ী আর হার্ভেস্টার মালিক যে দাম ধরে দিচ্ছেন সেই দামেই ধান বিক্রি করতে হচ্ছে।
তিনি বলেন, ‘অন্য এলাকায় ব্যপারি বেশি থাকায় কৃষকেরা দাম ভালো পাচ্ছেন। কিন্তু আমাদের এলাকায় ব্যাপারি কম থাকায় দাম পাচ্ছি না ঠিকমতো’।
কৃষক সুমন আলী বলেন, মেশিন দিয়ে ধান কাটার সুবিধা ও অসুবিধা রয়েছে। চাষের খরচ বেশি হলেও দাম পাচ্ছি না। অটো মিল মালিকরা ধান নিতে চাচ্ছে না। যার কারণে ধান কেটেও আমরা বিপদে পড়ছি।
কৃষক মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘মেশিনে ধান কাটার ফলে মাঠ থেকেই ধান বিক্রি করে দিয়ে টাকা নিতে পারছি। তবে ব্যাপারিরা যে দাম বলছে সেই দামেই বিক্রি করতে হচ্ছে’।
ব্যবসায়ী পলান বলেন, ‘হার্ভেস্টার নিয়ে এসে যেটুকু কেনার প্রয়োজন সেটুকু ধান কেটে আমরা কিনি। এতে কৃষকের সুবিধা। প্রতিদিনই ধান কেটে কিনে নিয়ে যাই’।
হার্ভেস্টার চালক বিদ্যুৎ হোসেন বলেন, ‘ব্যাপারিরা আমাদের নিয়ে আসে। তাদের প্রয়োজনমতো ধান কেটে দেই। অন্য কৃষকদের জমির ধানও কাটি। প্রতিদিন গড়ে ১৮-২০ বিঘা জমির ধান কাটতে পারি। দূরুত ভেদে ধান কাটার দাম কম বেশি হয়। বিঘাপ্রতি এক হাজার আটশ’ থেকে দুই হাজার টাকা খরচ নিচ্ছি’।
কুষ্টিয়া কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপ-পরিচালক টিপু সুলতান সপন জানান, কম্বাইন্ড হার্ভেস্টার ও যন্ত্রের সাহায্যে ধান কাটলে শ্রমিকের তুলনায় তিন ভাগের একভাগ কম খরচ হয়। মাঠ পর্যায়ে যন্ত্রের সাহায্যে ধান কাটার ক্ষেত্রে কৃষকদের জিম্মির ব্যাপারে লিখিত অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এসএইচ