চার দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে চীনে পৌঁছেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। বুধবার (মার্চ ২৬) বাংলাদেশ সময় বিকেল সোয়া ৪টায় চীনের হাইনান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান তিনি।
প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলমের বরাত দিয়ে ভারতের প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম দ্য হিন্দুর এক প্রতিবেদনে এমনটাই বলা হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) দ্য হিন্দুকে প্রেস সচিব শফিকুল আলম বলেন, প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মোহাম্মদ ইউনূস চীন সফরের আগে ভারত সফর করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু ঢাকার সফরের অনুরোধে ভারতের পক্ষ থেকে ‘ইতিবাচক’ সাড়া পাওয়া যায়নি।
শফিকুল আলম বলেন, ‘আমরা আসলে আমাদের আগ্রহ দেখিয়েছিলাম এবং গত বছরের ডিসেম্বরে ভারতীয় পক্ষকে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ইউনূসের ভারতে দ্বিপাক্ষিক সফরের জন্য অনুরোধ করেছিলাম। চীন সফর চূড়ান্ত হওয়ার কয়েক সপ্তাহ আগে এটি করা হয়েছিল। দুর্ভাগ্যজনকভাবে, আমরা ইতিবাচক সাড়া পাইনি। ’
গত চার মাসে ড. ইউনূস দ্বিতীয় সরকারপ্রধান, যিনি দক্ষিণ এশিয়া থেকে চীন সফর করছেন। গত ডিসেম্বরে চারদিনের সফরে চীন গিয়েছিলেন নেপালের প্রধানমন্ত্রী কে পি শর্মা।
ড. ইউনূসের চীন সফরকে বেইজিং অত্যন্ত গুরুত্ব দিচ্ছে। কারণ বাংলাদেশ চীনা বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করতে চায় এবং বার্তা দিতে চায় যে চীনা উদ্যোক্তাদের জন্য বাংলাদেশে কারখানা স্থাপনের দরজা উন্মুক্ত।
এ বিষয়ে প্রেস সচিব শফিকুল আলম এক প্রেস ব্রিফিংয়ে জানিয়েছিলেন, প্রধান উপদেষ্টার এ সফর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশের চীনা বিনিয়োগ বৃদ্ধিতে এ সফর অত্যন্ত ফলপ্রসূ হবে।
এদিকে, মোদী-ইউনুস বৈঠকের ওপর জোর দিয়েছে ঢাকা। কারণ ভারত জানিয়েছে যে, তারা আগামী মাসে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া বিমসটেক শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকে বাংলাদেশের অনুরোধ বিবেচনা করছে। ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর ইঙ্গিত দিয়েছেন, নরেন্দ্র মোদী বিমসটেক শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিতে পারেন। ড. ইউনূসের সঙ্গে বৈঠকের বিষয়ে তিনি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ নন, তবে বিষয়টি বিবেচনাধীন।
ভারতের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক বিষয়ে উত্তরের অপেক্ষায় রয়েছে ডাকা। মঙ্গলবার পররাষ্ট্র সচিব মো. জসিম উদ্দিন সাংবাদিকদের বলেন ‘ড. মুহাম্মদ ইউনূস এবং নরেন্দ্র মোদীর মধ্যে বৈঠকের জন্য বাংলাদেশ প্রস্তুত। ঢাকা ভারতের কাছ থেকে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়ার জন্য অপেক্ষা করছে। ’
তিনি আরও বলেন, ‘ঢাকা আশা করে যে এই বৈঠক দুই দেশের সম্পর্কের অচলাবস্থার অবসান ঘটাবে। দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের পরিস্থিতি বিবেচনা করে আমরা এই বৈঠকটিকে বেশ গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছি। ’
সম্প্রতি বিবিসি বাংলাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্কে কোনো অবনতি ঘটেনি, দাবি করেন ড. ইউনূস। তবে তিনি স্বীকার করেন, কিছু প্রচারণার কারণে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের মধ্যে কিছু উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।
ড. ইউনূস বলেন, কোনো অবনতি ঘটেনি, আমাদের সম্পর্ক সবসময় ভালো থাকবে। এখন যেমন ভালো আছে, ভবিষ্যতেও তা ভালো থাকবে। বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে ভালো সম্পর্ক থাকা ছাড়া আর কোনো পথ নেই।
প্রসঙ্গত, আজ বিকেলে চীনের হাইনান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছালে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে অভ্যর্থনা জানান হাইনান প্রদেশের ভাইস গভর্নর কিওনহাই বোয়াও ও চীনে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মো. নাজমুল ইসলাম। আগামীকাল (২৭ মার্চ) হাইনান প্রদেশে বোয়াও ফোরাম ফর এশিয়া সম্মেলনে যোগ দেবেন ড. ইউনূস। তিনি এ সম্মেলনের উদ্বোধনী অধিবেশনে ভাষণ দেবেন। পরদিন (২৮ মার্চ) প্রধান উপদেষ্টা বেইজিংয়ের গ্রেট হল অব দ্য পিপলে প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠক করবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
তিনি হুয়াওয়ের একটি উচ্চ প্রযুক্তির উদ্যোগ পরিদর্শন ও চীনের শীর্ষস্থানীয় একটি সংবাদ মাধ্যমকে সাক্ষাৎকার দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
আগামী ২৯ মার্চ ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে সম্মানসূচক ডক্টরেট ডিগ্রি দেবে পিকিং বিশ্ববিদ্যালয়। তিনি সেখানে বক্তব্য দেবেন। এরপর ওইদিনই প্রধান উপদেষ্টা দেশে ফিরবেন।
বাংলাদেশ সময়: ২০৪৮ ঘণ্টা, মার্চ ২৬, ২০২৫
এসএএইচ