ঢাকা, রবিবার, ১৬ ভাদ্র ১৪৩২, ৩১ আগস্ট ২০২৫, ০৭ রবিউল আউয়াল ১৪৪৭

সারাদেশ

শেষ কর্মদিবসে শিক্ষক শাহজাহানকে ঘোড়ার গাড়িতে চড়িয়ে বিদায়

মাহবুবুর রহমান মুন্না, ব্যুরো এডিটর | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ১৬:৩৪, আগস্ট ৩১, ২০২৫
শেষ কর্মদিবসে শিক্ষক শাহজাহানকে ঘোড়ার গাড়িতে চড়িয়ে বিদায় ঘোড়ার গাড়িতে বসিয়ে শিক্ষক শাহজাহানকে বাড়িতে পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে।

শেষ কর্মদিবসে সিনিয়র শিক্ষককে বিদায় জানাতে ব্যতিক্রমী আয়োজন করেছেন শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা। ফুলে সাজানো ঐতিহ্যবাহী ঘোড়ার গাড়িতে বসিয়ে তাকে বাড়িতে পৌঁছে দেওয়া হয়।

করতালিতে ভেসে যাওয়া এক আবেগঘন মুহূর্ত।

রোববার (৩১ আগস্ট) দুপুরে খুলনার খানজাহান আলী থানার ফুলবাড়িগেটে অবস্থিত আর আর এফ (রেঞ্জ রিজার্ভ ফোর্স ) সেকেন্ডারি স্কুলে এই আয়োজন করা হয়। অবসরে যাওয়া সিনিয়র শিক্ষক শাহজাহান হাওলাদারকে সম্মান জানাতে এই আয়োজন করা হয়। এ বিদ্যালয়ে ৩৬ বছর সাত মাস তিনি সুনামের সাথে শিক্ষকতা করেছেন। তার বিদায়ে বিদ্যালয়ে এক আবেগঘন পরিবেশ সৃষ্টি হয়।

ওই শিক্ষকের অবসরগ্রহণ উপলক্ষে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বর্ণিল এ আয়োজন করেন। বিভিন্ন ফুলের মালা দিয়ে সাজানো ঘোড়ার গাড়িতে করে ওই শিক্ষককে বিদায় জানান সহকর্মী ও শিক্ষার্থীরা।

ঘোড়ার গাড়িতে বসিয়ে শিক্ষক শাহজাহানকে বাড়ি পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে।

খানজাহান আলী থানার মীরেরডাঙ্গার সেনপাড়ার বাড়ি পর্যন্ত ঘোড়ার গাড়িতে করে পৌঁছে দেওয়া হয়। এ সময় তার সাথে ছিলেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জাহিদুল ইসলাম।

শিক্ষকরা জানান, শাহজাহান হাওলাদার ছিলেন ছাত্র ও সহকর্মীদের কাছে অত্যন্ত প্রিয় একজন মানুষ। তার ন্যায়নীতি ও আদর্শ আমাদের জন্য অনুকরণীয় হয়ে থাকবে। তিনি স্কুলের জন্য মাটি কাটা থেকে শুরু করে সুনামের সাথে শিক্ষকতা পর্যন্ত করেছেন। তিনি অনেক সামাজিক কাজও করতেন।

অবসরে যাওয়া সিনিয়র শিক্ষক শাহজাহান হাওলাদার তার অনুভূতি জানিয়ে বলেন, আমাকে এভাবে বিদায় সংবর্ধনা দেওয়ায় আমি অত্যন্ত আনন্দিত। খুলনা মহানগরীতে এমন আড়ম্বরভাবে কোন শিক্ষককে বিদায় জানানো হয়েছে কি না আমার জানা নেই। এজন্য আমি স্কুল কর্তৃপক্ষ, বিশেষ করে আমার সহকর্মীরা, প্রধান শিক্ষক, সহকারী প্রধান শিক্ষকসহ আমার সহকর্মী ও ছাত্রছাত্রী যাদের উদ্যোগে আমাকে এমন বিদায় সংবর্ধনা দেওয়া হলো এদের প্রতি আমি চির কৃতজ্ঞ। এটা একটি দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে আগামীর জন্য।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. জাহিদুল ইসলাম বলেন, স্কুলটির প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে শাহজাহান হাওলাদার স্যার এখানে শিক্ষকতা করছেন। যেহেতু তিনি প্রতিষ্ঠাতা শিক্ষক তাই তার বিদায়ে আমরা চেয়েছি একটি দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে।

শিক্ষার্থীরা বলেন, স্যার অনেক ভালো ছিলেন। আমরা অনেক সময় বিভিন্ন সমস্যায় পড়লে তিনি আমাদের কখনো আশাহত করেননি। আমাদের অনেক উপদেশ দিয়েছেন। যা আমাদের ভবিষ্যতে কাজে লাগবে। তিনি শুধু পাঠ্যপুস্তক থেকে আমাদের পড়াতেন না। তিনি আমাদের বিভিন্ন বিষয়ে উপদেশ দিতেন। আমরা তার শাসনকে মিস করবো। তার দীর্ঘায়ু কামনা করছি।

এমআরএম

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।