বাংলাদেশ ও ফিলিপাইন তথা ঢাকা-ম্যানিলা দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা আরও জোরদার করতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। এ লক্ষ্যে সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র অন্বেষণের ওপর জোর দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
‘দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক পেরিয়ে: বাংলাদেশ-ফিলিপাইন সহযোগিতার নতুন পথ উন্মোচন’ শীর্ষক কান্ট্রি লেকচারের আয়োজন করে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ (বিআইআইএসএস)। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশে নিযুক্ত ফিলিপাইনের রাষ্ট্রদূত নিনা পি. কেইনলেট সম্মানিত অতিথি বক্তা হিসেবে মূল বক্তব্য দেন।
রাষ্ট্রদূত কেইনলেট অভিন্ন মূল্যবোধ, উন্নয়ন অগ্রাধিকার এবং জ্বালানি, কৃষি ও শিক্ষার মতো খাতে বৃহত্তর সহযোগিতার সম্ভাবনার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন। তিনি বলেন, বর্ধিত দ্বিপাক্ষিক সম্পৃক্ততা আঞ্চলিক শান্তি, সমৃদ্ধি ও টেকসই প্রবৃদ্ধিতে সহায়ক ভূমিকা রাখবে।
তিনি আরও জানান, বাংলাদেশ-ফিলিপাইনের সম্পর্কের পাঁচ দশকের ইতিহাস রয়েছে। বর্তমানে সামুদ্রিক, পরিবেশ, পানি, জলবায়ু, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, অর্থনীতি ও টেক্সটাইলসহ নানা খাতে সহযোগিতা চলছে। আগামী দিনে এসব খাতে সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণে ফিলিপাইন আগ্রহী।
অনুষ্ঠানে বিআইআইএসএস’র মহাপরিচালক মেজর জেনারেল ইফতেখার আনিস স্বাগত বক্তব্য দেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক ড. দেলোয়ার হোসেন সূচনা বক্তব্যে বাংলাদেশ-ফিলিপাইনের ঐতিহাসিক সম্পর্কের কথা উল্লেখ করেন। তিনি বাণিজ্য, বিনিয়োগ, জনগণের পারস্পরিক যোগাযোগ ও সামুদ্রিক সহযোগিতার নতুন দিগন্ত উন্মোচনের ওপর জোর দেন। একই সঙ্গে ইন্দো-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের পরিবর্তিত ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদারের গুরুত্ব তুলে ধরেন। এসময় তিনি বাংলাদেশকে আসিয়ান ডায়ালগ পার্টনার হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করতে ফিলিপাইনের প্রতি আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সাবেক ভারপ্রাপ্ত পররাষ্ট্র সচিব ও রাষ্ট্রদূত মো. রুহুল আলম সিদ্দিক।
উন্মুক্ত আলোচনা পর্বে ঊর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তা, কূটনীতিক, শিক্ষাবিদ, গণমাধ্যম প্রতিনিধি, গবেষক ও শিক্ষার্থীরা অংশ নেন। তারা বাংলাদেশ-ফিলিপাইন সম্পর্ক আরও গভীর করার বিষয়ে মতামত ও পরামর্শ তুলে ধরেন।
টিআর/এমজে