‘সাবের হোসেন ও মোবাশ্বের হোসেন দুজনের কেউ ২০০৮-এর কাউন্সিলর নন। কাজেই ওই গঠনতন্ত্র অনুযায়ী, যদি নির্বাচন হয়ই তারা কেউ নির্বাচনে আসছেন না।
পাপন আরও বলেন, ‘এখনকার যিনি শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট বোর্ডের প্রেসিডেন্ট, ওই দেশের পার্লামেন্টের ডেপুটি স্পিকার। ওনাকে পর্যন্ত চার মাস আইসিসিতে ঢুকতেই দেওয়া হয়নি। বোর্ড মিটিংয়ে তাদের কোনো প্রতিনিধিই ছিল না। তাদের টাকা পয়সা পর্যন্ত বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। যতদিন না পর্যন্ত ওই নিয়ম অনুযায়ী নির্বাচন করে নির্বাচিত হয়ে এসেছেন। ২০০৮ এ ফিরে যাওয়া মানে আইসিসি থেকে বাংলাদেশকে বন্ধ করে দেওয়া। আমাদের খেলাধুলা বন্ধ ও আর্থিক সব সুবিধা বন্ধ। এটা তারা কেন চাচ্ছে, বলার তো আর বাকি নেই। ’
ঘটনার সূত্রপাত গত ১৬ সেপ্টেম্বর। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) নির্বাচনকে সামনে রেখে সাধরণ সভা ও বিশেষ সভাসহ বোর্ডের সব কার্যক্রম বন্ধের জন্য বিসিবি, বিসিবি সভাপতিসহ সাত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বরাবর আইনি নোটিশ পাঠিয়েছিলেন সাবেক কাউন্সিলর ও স্থপতি মোবাশ্বের হোসেন। এর একদিন আগে নিজ ক্লাব বারিধারা ড্যাজলার্সের প্যাডে বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন বরাবর চিঠি দেন সাবেক সভাপতি ও এমপি সাবের হোসেন চৌধুরী।
চিঠিতে তিনি লিখেছেন, ‘সুপ্রীম কোর্টের আপিল বিভাগের রায় অনুযায়ী নাজমুল হাসান পাপন কাউন্সিলর হওয়ার যোগ্যতা রাখেন না। সভায় যোগদানের যে চিঠি তাকে বা অন্যদের দেয়া হয়েছে তাও যথাযথ নয়। কারণ যে গঠনতন্ত্র অনুযায়ী এসব কাউন্সিলর ঠিক করা হয়েছে এবং তার উপর ভিত্তি করে ২০১৩ সালে বিসিবির নির্বাচন হয়েছে তা অবৈধ। বোর্ড সভাপতির কাছে আমার অনুরোধ বর্তমান কাউন্সিলরদের নিয়ে যেন বিসিবি সভা ও বিশেষ সভা আয়োজন না করে। তাহলে সেটি হবে আদালতের রায়ের সুস্পষ্ট অবমাননা। ’
প্রসঙ্গত, গত ২৬ জুলাই বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের গঠনতন্ত্র সংক্রান্ত এক মামলায় আপিল বিভাগের দেয়া রায় নিজেদের পক্ষে দাবি করে আগামী ২ অক্টোবর বার্ষিক সাধারণ সভা ও বিশেষ সভার তারিখ ঘোষণা করেছে বিসিবির বর্তমান পরিচালনা পর্ষদ। কিন্তু মামলার বাদী মোবাশ্বের হোসেনের দাবী, রায় অনুযায়ী বর্তমান পরিচালনা পর্যদের কোন বৈধতা নেই।
জানা গেছে, নির্বাচন নিয়ে ক্রিকেট বোর্ডের অবস্থান আঁচ করতে পেরে আইনজীবির মাধ্যমে দেশের ক্রিকেটের সর্বোচ্চ সংস্থাটির বিরুদ্ধে মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছেন মোবাশ্বের হোসেন।
বাংলাদেশ সময়: ১৯৪৫ ঘণ্টা, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০১৭
এইচএল/এমআরএম